দেশের প্রায় অর্ধেক বিটিএস অসচল! বন্ধ হয়েছে হাজার দুয়েক পপ
ঘুর্ণিঝড় রিমেল এর প্রভাবে দেশের ৪৫ জেলায় দেশের মোবাইল অপারেটরদের ৮ হাজার ৪১০টি সাইট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন। জরুরী ভিত্তিতে এসব সাইটে বিদ্যুত সংযোগ পুণঃস্থাপনে এরই মধ্যে পিডিবি, ডিপিডিসি ও বিআরইবি-কে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার বিকেলে বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকার ৩২ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অসচল হলেও সোমবার সকাল নাগাদ এই হার ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য বিকেল ৪টা নাগাদ এই সংখ্যার অবনতি হয়ে ৪৮.৭১ শতাংশ হয়েছে। ওই হিসেবে ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৬১০টি বিটিএস এর মধ্যে ২২ হাজার ২১২টি অসচল তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
তবে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে উপকূলীয় নয় জেলার মোবাইল নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এসব এলাকায় প্রায় ১৫,০০০ মোবাইল সাইট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। নেটওর্য়াক দ্রুত ফিরিয়ে আনতে মোবাইল অপারেটররা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অপরদিকে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সংযোগ পুণঃস্থাপন সম্ভব নয়।
এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় আইএসপি অপারেটরদের ৩২০টি পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) এর মধ্যে ২২৫টি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোলা জেলার ৮৫ শতাংশ পপ আক্রান্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের তিন লাখের মতো গ্রাহক সেবা বঞ্চিত হয়েছেন। সেবা সচল রাখতে তারা পোর্টেবল জেনারেটর ব্যবহার করছে।
এনটিটিএন অপারটেরদের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ জেলার ১৯০৮টি পপ বিদ্যুত না থাকায় বন্ধ হয়েছে। তবে ফাইবার অ্যট হোমের খুলনা, বারিশাল ও চট্টগ্রামের ১৬৯০টি পপের ব্যাটারি ব্যাকআপ শেষ হওয়ায় ৬টি লোকেশন বন্ধ রয়েছে। তবে বাহন লিমিটেডের কোনো পপ বন্ধ হয়নি।
সূত্রমতে, রিমেল এর তাণ্ডবে মোবাইল অপারেটরদের সবচেয়ে বেশি অসচল বিটিএস রয়েছে বরগুণায়। সেখানে বিদ্যমান ৩২৬টি সাইটের মধ্যে ২৬৬টিই বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও বাগেরহাট ও পিরোজপুরের ৭৮ শতাংশ, ভোলা, সাতক্ষিরা ও ঝালকাঠীর ৭৭ শতাংশ, পটুয়াখালীর ৭৬ শতাংশ, বরিশালের ৭১ শতাংশ, গোপালগঞ্জের ৬৬ শতাংশ, নড়াইলের ৬৪ শতাংশ, যশোরের ৫৬ শতাংশ, খুলনার ৫০ শতাংশ আক্রান্ত ৪৫ জেলায় বিদ্যমান ২৯ হাজার ৬৮৭টি সাইটের মধ্যে ২৮ শতাংশই অসচল হয়ে পড়েছে।







